“ট্রাস্ট আমার শেয়ারের কী করবে?” — কেউ এই প্রশ্ন তোলার আগেই এই পাতা দেখিয়ে দেয়, আইন এমনিতেই কাকে কতটুকু দেয়। ইসলামি উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুযায়ী এগুলোই প্রত্যেকের স্বাভাবিক শেয়ার — পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিটি খোলামেলা আলোচনার শুরুর জায়গা। আল্লাহ দাদা-দাদিকে দীর্ঘ, সুস্থ জীবন দান করুন — যত্নবান পরিবার এই হিসাব আগেভাগেই, শান্ত মনে, সবাই একসঙ্গে বসে পড়ে নেয়।
এই হিসাবে জীবিত ওয়ারিশ: তাঁর স্ত্রী দাদি, পাঁচ ছেলে (মেহেদি, মোহাম্মদ আলী, মওলা, মুস্তাফা, জয়) আর এক মেয়ে (লাবিবা)। হিসাবের সুবিধার জন্য মোট 88 শেয়ারের সাধারণ ভিত্তিতে:
| ওয়ারিশ | ভাগ | শতাংশ |
|---|---|---|
| দাদি (স্ত্রী) | 1/8 (88-এর মধ্যে 11) | 12.50% |
| প্রতিটি ছেলে — মেহেদি, মোহাম্মদ আলী, মওলা, মুস্তাফা, জয় | প্রত্যেকে 7/44 (88-এর মধ্যে 14) | প্রত্যেকে ≈ 15.91% |
| পাঁচ ছেলে মিলে | 88-এর মধ্যে 70 | ≈ 79.55% |
| লাবিবা (মেয়ে) | 7/88 | ≈ 7.95% |
| মোট | 88-এর মধ্যে 88 | 100% |
এই হিসাবে জীবিত ওয়ারিশ: তাঁর স্বামী দাদা, সেই পাঁচ ছেলে আর এক মেয়ে। মোট 44 শেয়ারের সাধারণ ভিত্তিতে:
| ওয়ারিশ | ভাগ | শতাংশ |
|---|---|---|
| দাদা (স্বামী) | 1/4 (44-এর মধ্যে 11) | 25.00% |
| প্রতিটি ছেলে — মেহেদি, মোহাম্মদ আলী, মওলা, মুস্তাফা, জয় | প্রত্যেকে 3/22 (44-এর মধ্যে 6) | প্রত্যেকে ≈ 13.64% |
| পাঁচ ছেলে মিলে | 44-এর মধ্যে 30 | ≈ 68.18% |
| লাবিবা (মেয়ে) | 3/44 | ≈ 6.82% |
| মোট | 44-এর মধ্যে 44 | 100% |
নিচের দুই কলামই সত্যি কথা। ফারায়েজ মোটেই “খারাপ” নয় — এটা ন্যায্য, আপনাআপনি কার্যকর, কারও সইয়েরও দরকার হয় না। এটা শুধু ভাগ করে দেয়; আর ট্রাস্ট বানানোই হয়েছে সবকিছু একসঙ্গে অটুট রাখার জন্য।
| স্বাভাবিক অবস্থা — শুধু ফারায়েজ | পারিবারিক ট্রাস্ট থাকলে | |
|---|---|---|
| জমির কী হয় | প্রতিটি মৃত্যুতে ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়; প্রতিটি ওয়ারিশ নিজের টুকরোর পুরোপুরি মালিক — চাইলে রাখতে পারেন, চাইলে ইচ্ছামতো বেচে দিতে পারেন। | সব এক কাঠামোয় একসঙ্গে থাকে; পুরোনো পারিবারিক সম্পদে প্রতিটি শাখার ফারায়েজ-হিসাবের শেয়ার খোলাখুলি লেখা থাকে — লাবিবার পুরো শেয়ারসহ, একেবারে প্রথম দিন থেকেই। |
| দেখাশোনা করে কে | প্রতিটি ওয়ারিশ নিজের শেয়ার নিজে সামলান — সহজ, কোনো মিটিং লাগে না; কিন্তু যৌথ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রতিটি শরিক মালিকের একমত হওয়া লাগে। | পারিবারিক পরিষদের পরামর্শে একজন ট্রাস্টি — প্রতিটি শাখার একটি করে আসন, মোট ছয়টি আসন — আর নিরীক্ষা করা বার্ষিক হিসাব প্রতিটি শাখা-প্রধানের কাছে পৌঁছে যায়। |
| একজন বিধবা স্ত্রী কী পান | সম্পত্তির 1/8 (12.50%), প্রতিটি সম্পদের ছোট ছোট টুকরো হিসেবে। | নিজের শাখার মাধ্যমে পুরো ট্রাস্টের সুবিধাভোগী, আজীবন; পরবর্তী প্রোটেক্টর হিসেবেও দাদির নাম লেখা আছে। |
| 3 প্রজন্ম পেরোলে | প্রতিটি মৃত্যুতে ভাগ আবার হয়। এখনই 9 জন নাতি-নাতনি — প্রতি দফায় টুকরো বাড়ে আর ছোট হতে থাকে। | দাদা-দাদির প্রতিটি বংশধর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগী হিসেবে যুক্ত হয়; মূল সম্পদ অটুট থাকে আর একটাই পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে বেড়ে চলে। |
শেষে একটা নরম কথা: এই পাতা বোঝার জন্য, কোনো রায় বা ফতোয়া নয়। কোনো কিছুতে সই করার আগে চূড়ান্ত শেয়ার হিসাব করা হবে আসল সম্পদ রেজিস্টার ধরে, আর পরিবার যাঁদের ওপর ভরসা করে এমন একজন আইনজীবী ও একজন ইসলামি আলেম তা নিশ্চিত করবেন।